এক্সন শেভরন শেল

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ঘিরে তেল কোম্পানির মুনাফায় নতুন রেকর্ড

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সাধারণ মানুষের বাড়তি খরচ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তবে একই পরিস্থিতি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে বড় ব্যবসার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। একই সঙ্গে কমেছে বিভিন্ন অঞ্চলের পরিশোধন সক্ষমতা। এতে তেল পরিশোধন, জ্বালানি বাণিজ্য ও দামের ওঠানামা থেকে বড় অংকের মুনাফা করছে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানিগুলো। সর্বশেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফলে এরই প্রতিফলন দেখা গেছে। খবর সিএনএন ও বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় তেল কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিপুল মুনাফা করেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে এক্সনমবিলের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল এর অর্ধেকেরও কম। যুদ্ধের সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এক্সনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দৈনিক হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়ায় প্রায় ১৬ কোটি ডলার।

একই সময়ে শেভরনের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ২১০ কোটি। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ২৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

এর পেছনে জ্বালানির সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু পরিশোধন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল পরিশোধন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৭০ লাখ ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতা কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সচল থাকা পরিশোধনাগারগুলোর গুরুত্ব বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শুধু এক্সন ও শেভরন নয়, ইউরোপের বড় জ্বালানি কোম্পানি শেলও বিপুল মুনাফা করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেলের মুনাফা হয়েছে ৯৮৪ কোটি ডলার। এক বছরে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শেলের মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭৬ কোটি ডলারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার। পরে তা ১২০ ডলারের বেশি উঠে যায়। এরপর যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামছে শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেলের মুনাফার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ট্রেডিং ব্যবসা থেকে। যুদ্ধের কারণে শেলের কিছু কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। কাতারে কোম্পানিটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন মার্চের শুরু থেকে বন্ধ রয়েছে।

সেখানে শেলের পার্ল গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়, যা মেরামতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

যুদ্ধের বাজারে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়লেও এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভোক্তাদের ক্ষেত্রে। তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির জ্বালানি ও ডিজেলের দামও বেড়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের হিসাবে, ইরান যুদ্ধের কারণে বেশি দামের পেট্রল ও ডিজেলের জন্য মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। জ্বালানি কোম্পানিগুলো উচ্চ দামের সুবিধা নিয়ে মুনাফা বাড়ালেও সে চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

আরও